
২০২৩ সালের অক্টোবরে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এবি ডি ভিলিয়ার্সের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ভেঙে আলোচনায় এসেছিলেন জেইক ফ্রেজার–ম্যাগার্ক। তখন প্রশ্ন উঠেছিল, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের এই নতুন প্রতিভা কার মতো হবেন? ডেভিড ওয়ার্নার নাকি লেগ স্পিনও করতে পারায় পরবর্তী শহীদ আফ্রিদি?
কিন্তু সেই ফ্রেজার–ম্যাগার্ক কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন! অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বশেষ খেলেছেন গত বছর জুলাইয়ে। তার আগে ২০২৪ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ দলেও জায়গা হয়নি। ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিয়মিত খেললেও সর্বশেষ আইপিএলে তাঁকে কেউ কেনেনি। টান পড়েছিল পারফরম্যান্সের ভাঁড়াড়ে। তবে ফ্রেজার–ম্যাগার্ক যে হারিয়ে যাননি, সেটাই বুঝিয়ে দিলেন আজ অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে ওয়ানডে কাপে।
‘বিগ শো’খ্যাত গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের চোখে ‘অসীম প্রতিভাধর’ এই ব্যাটসম্যান অ্যাডিলেডে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৩ বলে ১২২ রানের বিস্ফোরক এক ইনিংস খেলেন। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে রেকর্ড গড়া এই ইনিংস খেলার পথে ফ্রেজার–ম্যাগার্ক যেন মনে করিয়ে দিলেন অর্ণবের সেই গানের লাইন, ‘হারিয়ে যাইনি, এটাই জরুরি খবর!’
ফিফটি করেছেন ১৪ বলে। সেঞ্চুরি ৪৯ বলে। দলের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে একাই তোলেন ২২ রান, চতুর্থ ওভারে ১৭। তখন মনে হচ্ছিল, ২০২৩ সালে মার্শ কাপে এবি ডি ভিলিয়ার্সকে পেছনে ফেলে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের গড়া ২৯ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ডটা বুঝি ভেঙেই দেবেন! শেষ পর্যন্ত তা না পারলেও অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েন ২৪ বছর বয়সী ওপেনার।
শুধু তা–ই নয়, লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের দ্রুততম ১৮ বলে ফিফটির রেকর্ড ভেঙেছেন ফ্রেজার–ম্যাগার্ক। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সব মিলিয়ে এটি যৌথভাবে চতুর্থ দ্রুততম ফিফটি। মাত্র তিন বলের ব্যবধানে বৈভব সূর্যবংশীর ১১ বলে ফিফটির রেকর্ডটি ভাঙতে পারেননি।
ফ্রেজার–ম্যাগার্ক ১০ চার ও ৯ ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি খেলার পথে ক্যারেন রোলটন ওভালের সঙ্গে তাঁর ভালোবাসার সম্পর্কও আরও স্পষ্ট হলো। এই মাঠে খেলা ছয় ইনিংসে তাঁর সেঞ্চুরি দুটি ও একটি ৮৮ রানের ইনিংস। যেখানে তাঁর গড় ৬৮.৬৬ এবং স্ট্রাইক রেট ২০৪.৯৭। অথচ লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৩৭ ইনিংসে তাঁর গড় ২৬.৫, স্ট্রাইক রেট ১৩২.৮৩।