
ডামি নির্বাচন করে বাংলাদেশের নির্বাচনি ব্যবস্থাকে চিরস্থায়ী গোরস্থানে পরিণত করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার পরিণতিতে শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে হাসিনাকে পালিয়ে যেতে হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা কোনো সুষ্ঠু বা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করেননি। ডামি নির্বাচন ও নিশিরাতের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গোটা নির্বাচনি ব্যবস্থাকে চিরস্থায়ী গোরস্থানে পরিণত করেছিলেন। তার শাসনামলে দেশের মানুষ ভোটাধিকার হারানোর পাশাপাশি বাকস্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার থেকেও বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রশাসন ও বিচার বিভাগে নিজেদের লোক বসিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক থেকে টাকা লুটপাট ও পাচারের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। জনগণের ভোটকে জলাঞ্জলি দিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার পরিণতিতেই শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে অপরাধী শাসক হিসেবে শেখ হাসিনাকে পালিয়ে যেতে হয়েছে।
বিগত সরকারের প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ১০ টাকা কেজিতে চাল, বিনামূল্যে সার এবং ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু জনগণের সঙ্গে করা এসব অঙ্গীকার তারা পূরণ করেনি।
রিজভী বলেন, যারা জনগণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধোঁকা দেয়, শেষ পর্যন্ত তাদের ফ্যাসিস্টদের মতো দেশ ছেড়ে পালাতে হয়। জনগণের সঙ্গে প্রতারণার পরিণতি যে ভয়াবহ হতে পারে, বিগত সরকারের পতন তারই উদাহরণ।
বর্তমান সরকারের নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই সরকার জনবান্ধব এবং জনগণের দুঃখ-কষ্ট বোঝে। এ কারণে যে কোনো সংকটে সরকার সত্য কথা বলে আগাম ব্যবস্থা নেয়। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ ও সত্যবাদী সরকারকে পালাতে হয় না, কারণ জনগণের ভালোবাসাই তাদের টিকে থাকার ভিত্তি।