ভবন আছে পার্কিং নেই

রাজশাহী মহানগরীতে যানবাহনের চাপ দিন দিন বাড়লেও সেই তুলনায় বাড়েনি পার্কিং সুবিধা। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও ব্যস্ত এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত স্থায়ী বা কেন্দ্রীয় পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের দুই পাশে যত্রতত্র গাড়ি রাখছেন চালকরা। কোথাও ফুটপাত দখল করে রাখা হচ্ছে মোটরসাইকেল, কোথাও রাস্তার পাশে সারি করে রাখা হচ্ছে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস। আবার ব্যস্ত সড়কের দু’পাশে অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখায় সংকুচিত হয়ে পড়ছে চলাচলের জায়গা। এতে বাড়ছে যানজট, ব্যাহত হচ্ছে পথচারীদের চলাচল এবং তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট, নিউ মার্কেট, স্টেশন রোড, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ এলাকা, আরডিএ মার্কেট, অলকার মোড়, সিএন্ডবি, রাজশাহী কোর্ট এলাকা, গাউসিয়া মার্কেট, আলুপট্টি মোড়, লক্ষ্মীপুর মোড়, তালাইমারী, রেলগেট, সোনাদীঘির মোড় ও রানীবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পার্কিং সংকট সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। প্রতিদিন এসব এলাকায় কেনাকাটা, চিকিৎসা, চাকরি, ব্যবসা ও বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে বিপুলসংখ্যক মানুষ আসেন। কিন্তু তাদের যানবাহন রাখার জন্য পর্যাপ্ত নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় সড়ক ও ফুটপাতই হয়ে উঠেছে অস্থায়ী পার্কিং এলাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এসব এলাকার বিভিন্ন সড়কের একাংশ মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন রাখার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। কোথাও আবার রাস্তার মাঝখানেও যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। এতে সড়কের কার্যকর প্রস্থ কমে গিয়ে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। একই সড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, রিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই যানজট তৈরি হচ্ছে।

পার্কিং সংকটের কারণে শুধু যানজটই নয়, পথচারীদের ভোগান্তিও বাড়ছে। ফুটপাতের ওপর মোটরসাইকেল বা অন্যান্য যানবাহন রাখা হলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটেন। এতে যানবাহনের সঙ্গে পথচারীদের সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ে। আবার রাস্তার পাশে গাড়ি রাখার কারণে চলন্ত যানবাহনের জন্য জায়গা কমে যায়। ফলে যানজটের পাশাপাশি ছোটখাটো দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

মার্কেটে কেনাকাটা করতে এসে রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল রাখেন চালক রাহুল। তিনি বলেন, পার্কিংয়ের নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় অনেককে বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে গাড়ি রাখতে হয়। এতে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ে এবং ফুটপাতে গাড়ি রাখার কারণে পথচারীদের চলাচলে সমস্যা হয়। নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকা থাকলে গাড়িচালক ও পথচারী উভয়েরই সুবিধা হবে।

পথচারী ইমদাদুল হক সোহাগ বলেন, রাস্তার দুই পাশে গাড়ি রাখার কারণে পথচারীদের চলাচলে খুব সমস্যা হয়। প্রতিটি মার্কেটে পার্কিং ব্যবস্থা অথবা সরকারিভাবে নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হলে মানুষ ও যানবাহন উভয়ের জন্যই সুবিধা হবে। রাস্তার দুই পাশ দখলমুক্ত রাখা গেলে সড়ক প্রশস্ত থাকবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে।

নগরীর পার্কিং সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ও মার্কেটগুলোতে পর্যাপ্ত পার্কিং স্পেস না থাকা। অনেক ভবনে একাধিক প্রতিষ্ঠান থাকলেও নিচতলায় বা নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা নেই। আবার অনুমোদনের সময় পার্কিংয়ের জায়গা রাখা হলেও পরে তা অন্য কাজে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। ফলে ভবনে আসা মানুষজনের গাড়ির চাপ শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে সড়কের ওপর।

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ (সুইট) বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা লক্ষ্য করেছেন, অনেক ভবনের অনুমোদন দেওয়ার সময় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হলেও পরবর্তীতে অধিকাংশ ভবনমালিক সেই পার্কিং সুবিধা ব্যবহার করছেন না। কেউ পার্কিংয়ের জায়গা অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ নিজেরাই সেখানে ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। এ ধরনের অনেক অভিযোগ আরডিএ পেয়েছে।

তিনি বলেন, এখন থেকে পার্কিং নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ভবনের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। একই সঙ্গে যেসব ভবনে পার্কিংয়ের জায়গা অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেসব ভবনমালিককে এরই মধ্যে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পার্কিংয়ের জায়গা খালি করে তা নির্ধারিত কাজে ব্যবহারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নগরীর অলকার মোড়ের সাততলা এএইচ টাওয়ার এর একটি উদাহরণ। ভবনটিতে ১৩টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু নিচতলায় গাড়ি রাখার জায়গা না রেখে তা ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আসা মানুষজন ভবনের বাইরে রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। ব্যস্ত অলকার মোড়ে এতে সড়কের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে এবং যানজট বাড়ছে।

নগরীতে শুধু এএইচ টাওয়ার নয়, সাহেববাজার, ইসলামি ব্যাংক, ইজি ফ্যাশন, বাটা শোরুম, টপটেন, লক্ষ্মীপুর, তালাইমারী, নিউ মার্কেট, রেলগেট, সোনাদীঘির মোড়, রানীবাজার ও আরডিএ মার্কেট এলাকার বিভিন্ন বাণিজ্যিক বহুতল ভবনেও পর্যাপ্ত নিজস্ব পার্কিং স্পেস নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে আসা ক্রেতা, ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের গাড়ি রাস্তার পাশে রাখতে হচ্ছে।

মোটরসাইকেল চালক আকবর বলেন, তিনি মাঝেমধ্যে কোম্পানির কাজে রাজশাহীতে আসেন এবং বিভিন্ন কাস্টমার কেয়ারে যেতে হয়। অল্প সময়ের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে এলেও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় গাড়ি কোথায় রাখবেন, তা নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়। রাস্তার পাশে গাড়ি রেখে কাজে গেলে ফিরে এসে গাড়িটি ঠিকঠাক পাবেন কি না, সেটিও এক ধরনের অনিশ্চয়তা। বিভিন্ন শপিংমল ও বহুতল ভবন নির্মাণের সময় নিচে বা নির্দিষ্ট স্থানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হলে ভবিষ্যতে এ সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, শুধু নতুন ভবনে পার্কিং নিশ্চিত করলেই হবে না, পুরোনো ভবনগুলোতে যেসব পার্কিং স্পেস অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোও নির্ধারিত কাজে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে আরডিএ মার্কেটের একটি গ্যারেজের পরিচালক বলেন, সেখানে পার্কিংয়ের জায়গা খুবই ছোট। জায়গাটি আরেকটু বড় করা হলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সুবিধা হবে। অনেক মানুষ গাড়ি নিয়ে মার্কেটে এলেও জায়গা না থাকায় কেউ কেউ গাড়ি নিয়ে মার্কেটের ভেতরে বা দোকানের সামনে ঢুকে পড়েন। এতে দোকানের সামনে মালামাল আনা-নেওয়ায় সমস্যা হয়। এ নিয়ে দোকানদার ও গাড়িচালকদের মধ্যে প্রায়ই কথা কাটাকাটি হয়। ক্রেতারাও ভোগান্তিতে পড়েন।

গাড়িচালক রুবেল বলেন, বড় শপিংমল ও মার্কেটে প্রচুর গাড়ি এলেও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় চালকদের রাস্তার পাশে গাড়ি রাখতে হয়। মানুষ সাধারণত যে মার্কেট বা প্রতিষ্ঠানে যান, তার কাছাকাছি গাড়ি রাখতে চান। দূরে পার্কিং করলে সময় ও অন্যান্য সমস্যা হয়। ফলে পার্কিং না থাকায় বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে গাড়ি রাখতে হয়। এতে পথচারীদের চলাচলে সমস্যা হয় এবং অনেক সময় রিকশা বা অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে ধাক্কাও লাগে।

পার্কিং সংকটের সঙ্গে নগরীর যানবাহনের বাড়তি চাপও সমস্যাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে নিবন্ধিত ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে ৫ হাজার ৮১৯টি। আর নিবন্ধিত অটোরিকশার সংখ্যা ৮ হাজার ৯৭০টি। দুই শ্রেণির নিবন্ধিত যানবাহন মিলিয়ে সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৭৮৯টি।

তবে নগরীর বিভিন্ন সড়কে অনুমোদিত সংখ্যার তুলনায় অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে। সিটি করপোরেশনের নতুন লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ থাকার পরও প্রতিনিয়ত নতুন নতুন যানবাহন সড়কে যুক্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে নগরীর প্রধান সড়কগুলো ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা চলাচল করছে। পাড়া-মহল্লার সরু সড়ক থেকে শুরু করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়ক, প্রায় সব জায়গাতেই এসব যানবাহনের চলাচল রয়েছে। সিটি করপোরেশন লাইসেন্স দেওয়ার পাশাপাশি যানবাহনের চলাচলের সময় নির্ধারণ করে দিলেও বাস্তবে সেই নিয়ম কতটা মানা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

একই সময়ে নগরীর প্রধান সড়কে বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা চলাচলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রাস্তার পাশে রাখা ব্যক্তিগত যানবাহন। ফলে সড়কের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা কমে গিয়ে যানজট আরও তীব্র হচ্ছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সিএনজি, টেম্পু, রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নগরীতে আসে। এতে যানবাহনের চাপ বাড়ে এবং যানজট সৃষ্টি হয়। এসব সমস্যা নিরসনে সিটি করপোরেশন কাজ করছে। ট্রাফিক বিভাগও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, কেউ যেন যেখানে-সেখানে গাড়ি রাখতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নগরীর পার্কিং সংকট সমাধানে কিছু পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য জায়গা নির্বাচন করা হচ্ছে। সেখানে আধুনিক লিফটিং সিস্টেমের মাধ্যমে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পার্কিং সংকটের কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও তৈরি হচ্ছে বাস্তব জটিলতা। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, রাজশাহী গ্রিন সিটি ও নিরাপদ সিটি হিসেবে পরিচিত। শহরের সৌন্দর্য নিয়েও সুনাম রয়েছে। তবে কারিগরি দিক থেকে সড়ক ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যস্ত এলাকাগুলোর বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন।

তিনি বলেন, শহরের অনেক রাস্তা প্রশস্ত হলেও গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা নেই। লক্ষ্মীপুর, মেডিকেল এলাকার আশপাশ, সাহেববাজার, জিরো পয়েন্ট, মনিচত্বর ও গোরহাঙ্গার মতো এলাকায় মানুষ কেনাকাটা বা বিভিন্ন কাজে যান। কেউ এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় সেখানে অবস্থান করেন। কিন্তু এসব এলাকায় মোটরসাইকেল বা গাড়ি রাখার পর্যাপ্ত নির্ধারিত জায়গা নেই।

তার মতে, সাধারণ মানুষ, চিকিৎসক, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপর গাড়ি রেখে তাদের কাজে যান। রাস্তার ওপর গাড়ি রাখলে স্বাভাবিকভাবেই সড়কে চাপ বাড়ে এবং যানজট সৃষ্টি হয়। যেখানে-সেখানে গাড়ি রাখার প্রবণতা তৈরি হলে শহরে শৃঙ্খলা বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।

নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, ট্রাফিক পুলিশ প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু কাউকে রাস্তার ওপর গাড়ি না রাখতে বলা হলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন করেন—‘গাড়ি তাহলে কোথায় রাখব?’ পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় এ প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পার্কিংয়ের জায়গা তৈরি করা পুলিশের দায়িত্ব নয়, কিন্তু মাঠপর্যায়ে কাজ করার সময় নাগরিকদের এসব প্রশ্নের জবাব ট্রাফিক পুলিশকেই দিতে হয়।

তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকাগুলোতে নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। পার্কিং ব্যবস্থা থাকলে আরডিএ মার্কেট, জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকায় আসা মানুষ নির্ধারিত স্থানে গাড়ি রেখে কেনাকাটা ও অন্যান্য কাজ করতে পারবেন। এতে রাস্তার ওপর গাড়ি রাখার প্রবণতা কমবে, যানজট কমবে এবং সড়ক নিরাপদ হবে।

তার মতে, নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার পরও কেউ সেখানে গাড়ি না রেখে রাস্তায় গাড়ি রাখলে তার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করা পুলিশের জন্যও সহজ হবে। কারণ তখন তাকে গাড়ি রাখার বিকল্প জায়গা দেওয়া হয়েছে- এ কথা স্পষ্টভাবে বলা যাবে। বর্তমানে পর্যাপ্ত পার্কিং না থাকায় রাস্তার ওপর গাড়ি রাখা নিয়ে আইন প্রয়োগের সময় নাগরিকদের সঙ্গে পুলিশের ভুল বোঝাবুঝিরও সুযোগ তৈরি হয়।

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাহেববাজার জিরো পয়েন্টের বড় মসজিদের সামনে যে ফাঁকা জায়গা রয়েছে, সেখানে বর্তমানে যত্রতত্রভাবে পরিচালিত ব্যবসাগুলো স্থানান্তর করে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার বিষয়ে পুলিশ কমিশনার ও ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকের সামনের এলাকায় রাস্তা ও ফুটপাতের যে অংশ দখল করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলো সরিয়ে সেখানে সাময়িকভাবে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরডিএ চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করে বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সাহেববাজার এলাকায় একটি সুশৃঙ্খল পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহী আরডি মার্কেটকে ঘিরে যে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেখানে মার্কেটের নিচতলায় বড় পরিসরে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে সাহেববাজার কেন্দ্রিক পার্কিং সংকট অনেকটাই দূর হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *